১৯৮০ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশে হয়েছিল মোরাদাবাদ দাঙ্গা। ঐ বছরের ১৩ই আগস্ট ছিল ঈদুল ফিতর উনার দিন। সেখানকার পুলিশ ঈদগাহ ময়দানে নিরাপত্তা দেয়ার নাম করে ভেতরে ভেতরে দলিত হিন্দুদের সাথে সলাপরামর্শ করে দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে। 



পুলিশের যোগসাজশে ঈদগাহ ময়দানে নামায চলাকালীন সময়ে দলিত হিন্দুরা তাদের বস্তি থেকে একটি গৃহপালিত শূকর এনে ছেড়ে দেয় মুছল্লীগণ উনাদের মাঝে। নামায চলাকালীন সময়ে পুলিশি পাহারা সত্ত্বেও এরকম একটি ঘটনা ঘটায় স্বাভাবিকভাবেই মুসলমানগণ উত্তেজিত হয়ে পড়েন, এবং এই সুযোগে মুসলমান উনাদের উপর গুলিবর্ষণ শুরু করে হিন্দু পুলিশবাহিনী। ময়দানে সেদিন পঞ্চাশ হাজার মুসলমান উপস্থিত ছিল, অনেকের সাথে ছিল তাদের শিশুসন্তান। পাঠকরা বুঝতেই পারছেন, কি পরিমাণ রক্ত ঝরেছিল সেদিন মোরাদাবাদে?

তাছাড়া রয়েছে ১৯৯০’র হাসিমপুরা গণহত্যা, উত্তরপ্রদেশের পি.এ.সি. তথা সশস্ত্র পুলিশবাহিনীর হিন্দু সদস্যরা পঞ্চাশজন মুসলিম যুবককে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলিবর্ষণ করে। খালের পানিতে ফেলে দেয়া সেসব লাশগুলো পরবর্তীতে ভেসে ওঠে। ১৯৮৯ সালে ভাগলপুরের দাঙ্গায় পুলিশের এক এ.এস.আই. এর নেতৃত্বে লোগিয়ান গ্রামে ১০৮ জন মুসলমান শহীদ করা হয়, যাদের মৃতদেহ গুম করতে সেগুলো মাটিতে পুঁতে তার উপর রাতারাতি ফুলকপি ক্ষেত তৈরি করা হয়। 
(তথ্যসূত্র: গোলাম আহমাদ মোর্তজা রচিত ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায়, বিশ্ববঙ্গীয় প্রকাশন, কলকাতা, পৃষ্ঠা ২৬-২৮)

ভারতে যেভাবে হিন্দু পুলিশদের কারণে দাঙ্গা সংঘটিত হয়, ঠিক সেভাবে মুসলিম পুলিশ নিয়োগ করে দাঙ্গা থামানোর উদাহরণও সেখানে রয়েছে। সিদ্ধার্থ শংকর রায় যখন কলকাতার মুখ্যমন্ত্রী ছিল তখন কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় লেগে গেল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। দাঙ্গা বৃদ্ধিতে যেহেতু হিন্দু পুলিশের ভূমিকা অনস্বীকার্য, সেহেতু সাথে সাথে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিল যেন পার্ক সার্কাস এলাকায় শীঘ্র একজন মুসলিম পুলিশ ওসি নিয়োগ দেয়া হয়। তখন পুলিশ কমিশনার জানাল, গোটা কলকাতার কোন থানাতেই মুসলিম ওসি নেই । সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিল, যেন সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক থানাতেই কিছু কিছু মুসলিম অফিসার ও পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দেয়া হয়। 
(সূত্র: উপরোক্ত গ্রন্থের ১১৫ পৃষ্ঠা)

সম্প্রতি ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে পুলিশের এসআই পদে নিয়োগকৃত ১৫২০ জনের মধ্যে হিন্দু ছিল ৩৩৪ জন, শতকরা হিসাবে যা ২১.৯৭ শতাংশ!

২০১১ সালে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা বা এনএসআই’র নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ৯৩ জনের মধ্যে ২৬ জনই ছিল হিন্দু অথবা অমুসলিম।

এখন এদেশের জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাত্র ২ শতাংশ হিন্দুদের মধ্য থেকে পুলিশে এতোবেশি হিন্দু নিয়োগ দেয়ার কারণ কী? এদেশের পুলিশ ও গোয়েন্দাবাহিনীকে হিন্দুকরণ করার উদ্দেশ্য কি?

উত্তর খুবই সোজা, সংশ্লিষ্ট মহল এদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করতে চায়।